শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

পীরগঞ্জে বায়োমেট্রিক হাজিরায় আগ্রহী নন বেশির ভাগ প্রাথমিক শিক্ষক!

পীরগঞ্জে বায়োমেট্রিক হাজিরায় আগ্রহী নন বেশির ভাগ প্রাথমিক শিক্ষক!

জাকির হোসাইন, ঠাকুরগাঁও:

সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আগ্রহ নেই ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের বেশির ভাগ শিক্ষকের। এমনই জানিয়েছেন উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক শিক্ষক । যে কারণে উপজেলার ১৮৯টি বিদ্যালয়ে বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে একটি স্কুলেও বায়োমেট্রিক মেশিনই কেনেনি।

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ জুন এক চিঠিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্লিপের ফান্ড থেকে স্কুল পরিচালনা কমিটি ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও উপজেলার বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনেনি। তবে গত ৩০ জুন ভুয়া বিল-ভাউচারে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এসব অর্থ উত্তোলন করে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


সূত্র মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন স্লিপ প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে বলা হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে বরাদ্দ টাকা জমা রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৩০ জুন সব বিদ্যালয় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন না কিনে ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধানরা দাবি করেন, গত ডিসেম্বরে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা না কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে কারণে তারা স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা কেনেনি। পরবর্তী চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত বায়োমেট্রিক হাজিরা কেনা থেকে বিরত থাকবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন তাই বায়োমেট্রিক মেশিনের দরকার আছে। স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক কেনা বন্ধ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি টাকা কেউ খেতে পারবেনা। গত অর্থবছরের স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক কেনার কথা বলা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে যেন স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক কেনা না হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপি পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। উত্তরের কন্ঠ[ডট]কম
themebazaruttorerka234
error: Content is protected !!