রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
রুহিয়ায় আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন রানীশংকৈলে মহিলা সুপারের বিরুদ্ধে ৮ম শ্রেণি পাস স্বামীকে শিক্ষক বানানোর অভিযোগ (ভিডিও সহ) পীরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা, ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীর ‘হাত-পা ভেঙে’ স্বামী আটক রাণীশংকৈলে ৪৯ বোতল ফেন্সিলডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক রুহিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু পীরগঞ্জে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা অপহরণ মামলার আরও ১জন আসামী গ্রেফতার রাণীশংকৈলে তুলা তৈরীর মিলে আগুন দুই লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঠাকুরগাঁওয়ে রুপালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় অগ্নিকাণ্ড
উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় ভেঙ্গে পড়ে রাণীশংকৈলের ব্রিজটি, হয়নি পুনঃনির্মাণ

উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় ভেঙ্গে পড়ে রাণীশংকৈলের ব্রিজটি, হয়নি পুনঃনির্মাণ

ছবিঃ ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ হয়নি। 

উওরের কন্ঠ ডেস্কঃ ব্রিজ নেই, রাতের বেলা দূরপথ ঘুরে বাড়ির বয়োবৃদ্ধ রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরী হওয়ায় তিনি পথেই মৃত্যুবরণ করেন, একই কারণে চিকিৎসকরাও যেতে চান না এই এলাকায় ঘটনা ১৯৮৭ সালের। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাউৎনগর এলাকার ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতে কুলিখ নদীর ওপর একটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজটি উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনের মাথায়ই ভেঙে পড়ে। প্রতিবার নির্বাচনের সময় এমপি, চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের লাগাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু ওই ঘটনার দীর্ঘ ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ব্রিজ আর হয়নি। 

ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় নদীর দুই পাড়ের রসুলপুর, বর্ম্মপুর, বসতপুর, চাপর, বিরাশী, বদ্দখন্ড, গোগর, রানীভবানীপুর, লেহেম্বা ও কোচল গ্রামসহ ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে নদী পারাপার হয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার লেহেম্বা ও হোসেনগাঁও দুই ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে কুলিক নদী। ঐ দুই ইউনিয়নের সেতু বন্ধন হিসেবে ১৯৮৬-৮৭ সালে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়নে ২০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে প্রায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে দুই ইউনিয়নের এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হলেও উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনের মাথায় ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। 

১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যার স্রোতে ব্রিজটির দু-পাশেই দুমড়ে মুচড়ে যায়। অবশিষ্ট প্রায় ৩০-৪০ মিটার দাঁড়িয়ে থাকলেও তা দুইপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন থেকে ২৫ বছর কেটে গেলে সেই ব্রিজ তেমনই দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক পত্রপত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু এলাকাবাসীর ভাগ্য খোলেনি। 

এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন বলেন, নদীতে ব্রিজ না থাকায় এলাকার মানুষকে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে রাউৎনগর ও কাঠালডাঙ্গী বাজারে যাতায়াত করতে হয়। অথচ ব্রিজ থাকলে আধা কিলোমিটারের মধ্যে বাজারে যাতায়াত করতে পারত তারা। এ অবস্থায় কৃষি উৎপাদিত পণ্য হাট বাজারে নিতে ট্রাক্টর ও ট্রলি পার করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। নদী পার হতে অনেক সময় নদীতেই ট্রাক্টর হতে মালামাল পানিতে পড়ে যায়।

রসুলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, প্রতি বার নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান ও এমপি প্রার্থীরা এ নদীর ব্রিজটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ভোট নেওয়ার পর সব কিছু ভুলে যান। ফলে দীর্ঘ ২৫ বছরেও এ ব্রিজটি চলাচলের যোগ্য করা হয়নি।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিকল্প হিসেবে স্থানীয় কিছুসংখ্যক মানুষ কাঠ ও বাঁশের সাঁকো তৈরি করে আপাতত কাজ চালাচ্ছেন। তবে এ জন্য পারাপারে পথচারীদের দিতে হয় টাকা। কিন্তু বর্ষা মওসুমে পানির নিচে সাঁকোটি তলিয়ে যাওয়ায় পথচারীদের দুভোর্গের শেষ থাকে না। 

বসতপুর গ্রামের গৃহবধূ সাহেরা খাতুনের অভিযোগ, ব্রিজ নেই, রাতের বেলা দূরপথ ঘুরে তার বাড়ির বয়োবৃদ্ধ রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরী হওয়ায় তিনি পথেই মৃত্যুবরণ করেন, একই কারণে চিকিৎসকরাও যেতে চান না এসব এলাকায়। রাণীশংকৈল কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী আনোয়ার জানায়, বর্ষাকালে আমাদের স্কুল-কলেজ যাওয়া দূরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রাণীভবানীপুরের ব্যবসায়ী আজগর আলী জানান, এই ব্রিজটির জন্য মাল পরিবহনে অনেক বেশি খরচ হয়। 

লেহেম্বা গ্রামের মজুর আলতাফ বলেন, ব্রীজের এপাড়ের মানুষকে সদরের চাইতে বেশি দামে বিভিন্ন জিনিস কিনতে হয় আবার এ পাড়ের হাট বাজারে কৃষকরা ধান পাট যাই বিক্রি করতে যাক সেক্ষেত্রে তারা একই অজুহাতে কম মূল্য পেয়ে থাকেন।  ব্রিজটি নিয়ে বিব্রত হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুব আলম। তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করতে পারায় যন্ত্রণায় আছি। তবে এ ব্রিজটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।”

রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম বলেন, “এ ব্রিজটির বিষয়ে বিভাগীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ১০০ মিটারের বেশি দীর্ঘ হওয়ায় এটার বরাদ্দ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের ক্ষমতার বাইরে। তবে আমাদের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ পর্যায় থেকে টিম এসে মাপ নিয়ে গেছেন। তবে কখন ব্রিজটির জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ হবে তা ঠিক এখনই বলতে পারব না।”

এ ব্যপারে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। কিছুদিন আগে ঐ অধিদপ্তরের লোকজন এসে মাপ নিয়ে  গেছেন। আশা করছি তারা মানুষের ভোগান্তির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন।

সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপি পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। উত্তরের কন্ঠ[ডট]কম
themebazaruttorerka234
error: Content is protected !!