বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৭:০২ অপরাহ্ন

বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা পাবেন না আ.লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত

বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা পাবেন না আ.লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত

উওরের কন্ঠ ডেস্কঃ দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচিত হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের নৌকা না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সর্বসম্মতিকমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বোর্ডের সভায় বিদ্রোহী কোনো মেয়রপ্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। প্রথম দফায় দেশের ২৫ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সময় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামনের দিনেও একই নীতি অবলম্বন করবে দলটি। এছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়েও পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন বোর্ডের সদস্যরা। আগামীতেও যারা দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকা- করবে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষেই মত দেন বোর্ডের সদস্যরা। দলের শৃঙ্খলার বিষয়ে আরও কঠোর হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা। মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ফেরাতে

বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত ২৫ পৌরসভার যেখানে যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের হাতে নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জানা গেছে, ২৫ জনের মধ্যে এমন দুই-তিনজন ছিলেন, যারা গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের কাউকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আগামীতেও এ ধারা অব্যহত থাকবে। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ যেন নির্বাচন করার সাহস না দেখায় সেটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির নেতারা জানান।

মনোনয়ন বোর্ড ও আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, যারা ত্যাগী ও কোনো ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়, দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজে যুক্ত ছিলেন না, এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যারা অতীতে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ কাজ করা হয়েছে। সামনের দিনেও একই কাজ করা হবে। এটা তৃণমূলের জন্য একটি বার্তা।

এদিকে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে মনে করেন বোর্ডের সব সদস্য। সংগঠনের যেসব জায়গায় এ সমস্যা আছে, সেসব জায়গায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেও মত দেন বোর্ডের সদস্যরা। দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও বেশি কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, আবদুর রহমান এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

২৫ পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করল আওয়ামী লীগ : আসন্ন ২৫ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিম্নে পৌরসভা নির্বাচনে (প্রথম ধাপ) মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা দেওয়া হলো।

রংপুর বিভাগের পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদরে জাকিয়া খাতুন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মো. কশিরুল আলম, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মো. খাজা মইন উদ্দীন, রংপুরের বদরগঞ্জ মো. আহাসানুল হক চৌধুরী এবং কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সদরে মো. কাজিউল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে চার পৌরসভার মধ্যে রাজশাহী জেলার পুঠিয়াতে মো. রবিউল ইসলাম, কাটাখালী মো. আব্বাস আলী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মনির আক্তার খান তরু লোদী এবং পাবনার চাটমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সাখো মনোনয়ন পেয়েছেন।

খুলনা বিভাগের তিনটি পৌরসভার মধ্যে কুষ্টিয়ার খোকসায় আল মাছুম মুর্শেদ, খুলনা জেলার দাকোপ চালনায় সনত কুমার বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা সদরে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার। বরিশাল বিভাগের চারটি পৌরসভার মধ্যেÑ বরগুনার বেতাগীতে এবিএম গোলাম কবির, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবদুল বারেক মোল্লা, বরিশালের উজিরপুরে মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী ও বাকেরগঞ্জে মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়াকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগে তিনটি পৌরসভার মধ্যে মানিকগঞ্জ সদরে মো. রমজান আলী, ঢাকার ধামরাইয়ে গোলাম কবির ও গাজীপুরের শ্রীপুর মো. আনিছুর রহমান। ময়মনসিংহ বিভাগে দুটি পৌরসভার মধ্যে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এসএম ইকবাল হোসেন (সুমন) এবং নেত্রকোনা মদনে মো. আবদুল হান্নান তালুকদারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের তিনটি পৌরসভার মধ্যে সুনামগঞ্জের দীরাই বিশ্বজিৎ রায়, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে মো. মাসুদউজ্জামান মাসুক এবং চট্টগ্রাম বিভাগ একটি পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। সেটা হলো চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু-ে বদিউল আলমকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সুত্রঃ  আলোকিত বাংলাদেশ

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপি পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। উত্তরের কন্ঠ[ডট]কম
themebazaruttorerka234
error: Content is protected !!